দোকানদারের কাছে এ যেন এক স্বপ্নের ঘটনা ৷ এখনও পর্যন্ত তিনি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না, তাঁর দোকানে ঝালমুড়ি খেয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ঘটনাতেই এখনও বিভোর দোকানদার।
বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে সভা করতে এসেছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভা শেষ করে তিনি হেলিকপ্টারে করে ফেরার জন্য হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে যাচ্ছিলেন ৷ যাওয়ার পথেই ঝাড়গ্রাম কলেজ মোড়ের রাস্তায় থাকা চমনলাল স্পেশাল ঝালমুড়ি নামে একটি ঝালমুড়ির দোকানের সামনে আচমকাই তিনি দাঁড়িয়ে যান ৷ দোকানে তখন রয়েছেন মালিক বিক্রম কুমার সাউ। গাড়ি থেকে নেমে দোকানের দিকে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।
বিক্রম কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোদি দোকানের সামনে পৌঁছে গিয়ে তাকে তাঁর নাম জিজ্ঞেস করেন। মোদির উত্তরে দোকানদার তার নিজের নাম বলেন। এরপরই মোদি তাঁকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর জন্য অনুরোধ করেন, মোদির অনুরোধ শুনে বিক্রম অবাক হয়ে যান, কারণ দেশের প্রধানমন্ত্রী এসেছেন তাঁর দোকানে ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য।
তারপরেই প্রধানমন্ত্রী নিজের পকেট থেকে 10 টাকার একটি নোট বের করে বিক্রমের হাতে দেন ৷ বিক্রম প্রথমে টাকাটি নিতে অস্বীকার করলেও মোদি তাঁকে তা নেওয়ার জন্য জোর করলে অবশেষে তা নিয়ে বিক্রেতা ঝালমুড়ি বানিয়ে দেন। মুড়ি চানাচুর, বাদাম, ঝুরি, কাঁচা ছোলা, সিদ্ধ ছোলা, পেঁয়াজ, লঙ্কা, আমের আচার দিয়ে ঝালমুড়ি বানিয়ে ঠোঙায় ভরে মোদির হাতে দেন বিক্রম। মোদি ও সবার সামনেই ঝালমুড়ি কিনে খেতে থাকেন, এই মুড়ি খাওয়ার দৃশ্য দেখতে আট থেকে আশি প্রত্যেকের ভিড় জমাতে শুরু করে।
দোকানের সামনে যে সমস্ত ছোট ছোট বাচ্চারা মোদির মুড়ি খাওয়া দৃশ্য দেখছিল তাদের সঙ্গেও ঝালমুড়ি ভাগ করে নেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপরেই আবার তিনি গাড়িতে চড়ে হেলিপ্যাডের উদ্দেশে রওনা দেন।
দোকানে ঝাল মুড়ি খাওয়ার পর পুরো ঘটনা যেন বিক্রমের কাছে এক স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে, এখনও বিক্রম পুরো ঘটনায় বিভোর। বিক্রমের কাছে ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনা চারিদিকে চাউর হতেই মোদি চলে যাওয়ার পরে বিক্রমের দোকানে আরও ভিড় জমেছে সাধারণ মানুষের। এমনকী বহু পরিচিত এবং অপরিচিত ব্যক্তিরাও বিক্রমকে ফোন করে ঘটনার বিবরণ জানতে চাইছেন। বিক্রম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী আমার দোকানে এসেছিলেন এবং ঝালমুড়ি খেয়েছেন ৷ আমি খুব খুশি।"