চা-বাগানে ঢুকে পড়ল গণ্ডার শাবক। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছয় বন দফতর ৷ সঙ্গে চার কুনকি হাতি। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার টানা অভিযানের পর শেষমেশ শাবকটিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফেরাতে সফল হয় বন দফতর। অভিযানের মাঝেই গণ্ডারের হামলায় আহত হয়েছেন এক বনকর্মী। রবিবারের এই ঘটনা আলিপুরদুয়ারের পূর্ব মাদারিহাটের বারোমাইল এলাকার। এদিন স্বপন দাসের চা-বাগানে ঢুকে পড়ে প্রায় দেড় বছরের ওই গণ্ডার শাবকটি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা ভিড় করেন ৷ ঘটনাস্থলে এসে শাবকটিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফেরান জলদাপাড়া বন বিভাগের কর্মীরা ।
অভিযানে নামানো হয় চার কুনকি হাতি ডায়না, প্রিয়দর্শিনী, চন্দ্রিমা ও বাঁশিরাজকে। প্রশিক্ষিত বনকর্মীদের সঙ্গে কুনকি হাতিগুলিকে নিয়ে শুরু হয় 'অপারেশন রাইনো কাফ'। শাবকটি বারবার দিক পরিবর্তন করছিল ৷ এরইমধ্যে গণ্ডারটির কাছে লাঠি হাতে এগিয়ে যান এক বনকর্মী। আচমকাই তাঁর দিকে তেড়ে আসে বন্যপ্রাণীটি। ধাক্কায় মাটিতে পড়ে আহত হন ওই বনকর্মী। দ্রুত সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যান ৷ এরপর ধৈর্য ধরে চার কুনকি হাতির সাহায্যে শাবকটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর শাবকটিকে চা-বাগান থেকে জঙ্গলের দিকে ফেরাতে সফল হন বনকর্মীরা। অভিযানের সময় ছোটাছুটির জেরে শাবকটির শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়।
এটি কি গত 11 অগস্ট ফালাকাটার কুঞ্জনগর থেকে উদ্ধার হওয়া অনাথ গণ্ডার শাবক ? সন্দেহ বন দফতরের ৷ সেদিন কুঞ্জনগরে একটি সীমানার প্রাচীর ভেঙে বেরোনোর সময় গুরুতর আহত হয়ে মারা যায় গণ্ডার শাবকটির মা। পরে অনাথ শাবকটিকে উদ্ধার করে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হরিণডাঙা ওয়াচটাওয়ারের কাছে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল । অনুমান এই বাচ্চাটি সেই গণ্ডার শাবকের ৷